আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ভোটের সময় পরিবর্তন করেছে। বহু মানুষের সাধারণ প্রশ্ন হলো ভোটের সময় কেন এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটারদের সুবিধা, দুই ধরনের নির্বাচন একসাথে হওয়া এবং শান্তিপূর্ণ ভোট সম্পন্ন করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা
নির্বাচন কমিশনের সচিব জানিয়েছেন এবার ভোট শুরু হবে সকাল সাড়ে সাতটায় এবং চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। এর আগে ভোট শেষ হতো বিকেল চারটায়। অর্থাৎ এবার পুরো এক ঘণ্টা ভোটের সময় বাড়ানো হয়েছে।
ভোটের সময় কেন এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে সরকারি ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী ভোটের সময় কেন এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে তার মূল কারণগুলো হলো:
- দীর্ঘ লাইনের চাপ কমানো
- ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য
- দুই ধরনের নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন
- নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সহজ করা
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের ভোট নিশ্চিত করা
- কেন্দ্রভেদে চাপের বৈষম্য দূর করা
দীর্ঘ লাইনের সমস্যা
বাংলাদেশে অনেক কেন্দ্রে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, সময় বাড়ানো হলে ভোটাররা আরামে ভোট দিতে পারবেন এবং চাপ ছড়িয়ে যাবে দিনের বিভিন্ন সময়ে।
দুই নির্বাচন একসাথে হওয়া
এই নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ব্যালটের কাজ বাড়বে, ভোটারের সময় লাগবে বেশি, এবং প্রক্রিয়াটি জটিল হবে।
এজন্য ভোটের সময় কেন এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে তার একটি বড় কারণ হলো দুই ধরনের ব্যালট সামলানো।
মাঠ পর্যায়ের বিশ্লেষণ
নির্বাচনের আগে মাঠ পর্যায়ে মক ভোটিং করা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায় ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনা, সিক্রেট বুথ সংখ্যা বৃদ্ধি, লাইনের চাপ, বুথের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদির কারণে অতিরিক্ত সময় দরকার।
ভোটের সময় বাড়ানোর ফলে সুবিধা
সময় বাড়ানো হলে:
- ভোটারদের অপেক্ষার সময় কমবে
- ভিড় কমবে
- প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবস্থাপনা সহজ হবে
- বয়স্ক বা অসুস্থ ভোটারদের সুবিধা বাড়বে
- নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
তফসিল ঘোষণার দিন থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুইজন করে ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন। ভোটের পাঁচ দিন আগে এই সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। নিরাপত্তার চাপ কমাতে সময় বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
কেন্দ্রে ব্যালট পৌঁছানো
ভোটের আগের রাতেই ব্যালট পেপার পৌঁছে যাবে। দুই ধরনের নির্বাচন হওয়ার কারণে এই প্রস্তুতি আরও তাড়াতাড়ি নেওয়া হয়েছে যেন পরদিন ভোটে কোনো দেরি বা বিশৃঙ্খলা না হয়।
প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের নতুন ব্যবস্থা
ভোটকর্মীদের তালিকায় সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা থাকবেন। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মীদের এখন ভোটের কাজে যুক্ত করা হবে না। এই সিদ্ধান্ত ভোট পরিচালনা দ্রুত ও নির্ভুল করতে সাহায্য করবে।
ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
ভোটারদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, এবার ভোটের সময় পরিবর্তন হয়েছে। তাই ভোটারদের সকাল থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে কেন্দ্রে যেতে হবে। বিশেষ করে যারা কাজ বা ভ্রমণে থাকবেন তাদের জন্য সময় বাড়ানো বড় সুবিধা।
External Links
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
https://www.ecs.gov.bd
মন্ত্রণালয় ও সরকারি নোটিশ
https://cabinet.gov.bd
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
https://mopa.gov.bd
FAQs: ভোটের সময় কেন এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে
প্রশ্ন: ভোটের সময় কেন এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে
উত্তর: দীর্ঘ লাইন কমানো, ভোটারের সুবিধা বাড়ানো এবং দুই ধরনের নির্বাচন একদিনে হওয়ার কারণে সময় বাড়ানো হয়েছে।
প্রশ্ন: আগে ভোটের সময় কত ছিল
উত্তর: সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা।
প্রশ্ন: নতুন সময়সূচি কী
উত্তর: সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
প্রশ্ন: দুই নির্বাচন মানে কী
উত্তর: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে হবে।
প্রশ্ন: ভোটের দিনে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে কি
উত্তর: হ্যাঁ, প্রতিটি উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনী পুরো সময় মাঠে থাকবে।
প্রশ্ন: ভোটারদের কি আগে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে
উত্তর: জরুরি নয়, কারণ সময় বাড়ানো হয়েছে। তবে সকালে গেলে ভিড় কম থাকে।
উপসংহার
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় স্পষ্ট বোঝা যায় ভোটের সময় কেন এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে ভোটার সুবিধা, নিরাপত্তা, এবং দুই ধরনের নির্বাচনকে একত্রে পরিচালনা করার ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত। এই পরিবর্তন ভোটের দিনকে আরও শান্তিপূর্ণ, কার্যকর এবং ভোটার বান্ধব করবে।
Info and Image and Video Credit: CNNW NEWS TV

